জন্মের পর শিশুর টিকা দিয়েছেন তো?
শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্য সরকার ১৯৭৯ সালে যক্ষা, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস ও হাম- এই ছয় রোগের টিকা দেওয়া শুরু করে। বর্তমানে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯টি রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে।তাই আসুন জেনে নেই শিশুদের একান্ত প্রয়োজনীয় টিকা সম্পর্কে কিছু তথ্য।
০-১১ মাস এবং ১৫ মাস বয়সের
শিশুদের টিকাদান সময়সূচি
১। রোগের নাম:
যক্ষা/ টিবি
টিকার নাম: বিসিজি টিকা।
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: সাধারণত শিশুর জন্মের পর ৬ সপ্তাহের মধ্যে এ টিকা দিতে হয়।
2। রোগের নাম: ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস,
ইনফ্লুয়েঞ্জা- বি
টিকার নাম : পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (ডিপিটি হেপাটাইটিস-বি, হিব)
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: শিশুর বয়স 6 সপ্তাহ হলে।
৩।রোগের নাম: নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া
টিকার নাম: পিসিভি ভ্যাকসিন/নিউমোনিয়া প্রতিশোধক টিকা
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: শিশুর বয়স 6 সপ্তাহ হলে।
৪। রোগের নাম: পোলিও মাইলাইটিস
টিকার নাম: ওপিভি/আইপিভি/ পোলিও টিকা
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: শিশুর বয়স 6 সপ্তাহ হলে।
৫।রোগের নাম: হাম ও রুবেলা।
টিকার নাম: এমআর টিকা।
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: শিশুর বয়স 9 মাস পূর্ণ হলে।
৬।রোগের নাম: হাম।
টিকার নাম: হামের টিকা।
টিকা শুরু করার সঠিক সময়: শিশুর বয়স১৫ মাস পূর্ণ হলে।
এ সব টিকা ছাড়া অন্যান্য রোগের জন্য আরও কিছু টিকা আছে, যেগুলো সরকারিভাবে দেওয়া হয় না। যেমন- রোটা ভাইরাস ডায়েরিয়া, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা ইত্যাদি।
রোটা ভাইরাস- ডায়েরিয়ার দুই ডোজ টিকা শিশুর ২ মাস এবং ৪ মাস বয়সে অথবা তিন ডোজ টিকা শিশুর ২ মাস, ৪ মাস এবং ৬ মাস বয়সে দিতে হয়।
টাইফয়েডের টিকা- দিতে হয় ২ বছর বয়সে। এরপর প্রতি ২ বছর পর বুস্টার ডোজ দিতে হয়।
ইনফ্লুয়েঞ্জার- ক্ষেত্রে ৮ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য ১ম বছরে দুই ডোজ (৬ মাসের ব্যবধানে) টিকা দিতে হয়। এরপর প্রতি বছর একটি করে ডোজ দিতে হয়।
হেপাটাইটিস এ- প্রতিরোধে শিশুর ১ বছর বয়সের পর দু’টি টিকা দেওয়া যায় (৬ মাসের ব্যবধানে)।
মেনিঙ্গকক্কাল মেনিনজাইটিস, ভেরিসেলা, কলেরা রোগের টিকা তেমন একটা দেওয়া হয় না। তবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এই সব টিকা দেওয়া যেতে পারে।
কার্যকর টিকা :
সঠিক সময়সূচি অনুসরণ করে এবং ন্যূনতম বিরতি মেনে টিকা প্রদান করলে সে টিকাকে কার্যকর টিকা বলে।যেমন: শিশুর জন্মের ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিনের পর প্রথম ডোজ পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা অথবা ৯ মাস শেষ হয়ে ১০ মাস/২৭০দিন পর এমআর টিকা দিলে তা কার্যকর টিকা হবে।
অকার্যকর টিকা :
সঠিক সময়সূচি অনুসরণ না করে অথবা ন্যূনতম বিরতির আগে টিকা প্রদান করলে সে টিকাকে অকার্যকর টিকা বলে।যেমন: পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রথম ডোজের ২৮ দিনের আগে দিলে তা অকার্যকর টিকা হবে।
ইনজেকশনের পরে পার্শ্ব পতিক্রিয়া হলে :
যদি ইনজেকশন দেওয়ার ৪-১০ দিন পরে ইনজেকশনের স্থান গরম, লালচে, অনেকটা জায়গা নিয়ে শক্ত হয়ে যায় ও ঐ স্থানে অনেক বেশি ব্যথা হয়, তাহলে মনে করতে হবে এটা ইনফেকশনের লক্ষণ এবং ফোঁড়া সৃষ্টি হচ্ছে। এই সময় টিকা গ্রহণকারীর জ্বর আসতে পারে।চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।ফোঁড়া হলেও পরবর্তী টিকার ডোজ ও পরবর্তী টিকা সময়সূচি অনুযায়ী অবশ্যই দিতে হবে।
কখন টিকা দেওয়া যাবে?
১।প্রায় সকল অবস্থায়ই টিকা দেয়া যায়। টিকা দিলে যে সামান্য জ্বর বা ব্যথা হয় তার চেয়ে টিকা না দিয়ে রোগাক্রান্ত হওয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ।
২।অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুকে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। এই সব শিশুর দেহে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম থাকে। সুতরাং তার প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার জন্যই টিকা দেয়া বেশি জরুরি।
৩।পূর্বে শরীরে কোনো দানা উঠে থাকলে অথবা অতীতে হাম/রুবেলা হয়ে থাকলেও সেই শিশুকে ৯ মাস বা ২৭০ দিন পূর্ণ হলে ১ ডোজ এমআর টিকা এবং ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হলে হামের ২য় ডোজ টিকা দিতে হবে।
কেবলমাত্র নিম্নেউল্লেখিত
কারণগুলোতেই টিকা দেয়া
যাবে না
১।অসুস্থ শিশুকে টিকা দেয়া যাবে না।
২।পূর্ববর্তী পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেয়ার পর শিশুর খিঁচুনি বা অজ্ঞান হলে পরবর্তী পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার ডোজ দেয়া যাবে না। এই ক্ষেত্রে পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার বদলে ১ ডোজ টিটি টিকা দিতে হবে এবং শিশুকে অন্যান্য সকল টিকা (ওপিভি, এমআর, হাম) নিয়ম অনুযায়ী দিতে হবে।
পূর্ববর্তী টিকা দেয়ার পর
কোনো মারাত্বক পার্শ্ব-
প্রতিক্রিয়া হলে পরবর্তী
টিকা দেয়ার পূর্বে অবশ্যই
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্য সরকার ১৯৭৯ সালে যক্ষা, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস ও হাম- এই ছয় রোগের টিকা দেওয়া শুরু করে। বর্তমানে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯টি রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে।তাই আসুন জেনে নেই শিশুদের একান্ত প্রয়োজনীয় টিকা সম্পর্কে কিছু তথ্য।
০-১১ মাস এবং ১৫ মাস বয়সের
শিশুদের টিকাদান সময়সূচি
১। রোগের নাম:
যক্ষা/ টিবি
টিকার নাম: বিসিজি টিকা।
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: সাধারণত শিশুর জন্মের পর ৬ সপ্তাহের মধ্যে এ টিকা দিতে হয়।
2। রোগের নাম: ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস,
ইনফ্লুয়েঞ্জা- বি
টিকার নাম : পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (ডিপিটি হেপাটাইটিস-বি, হিব)
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: শিশুর বয়স 6 সপ্তাহ হলে।
৩।রোগের নাম: নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া
টিকার নাম: পিসিভি ভ্যাকসিন/নিউমোনিয়া প্রতিশোধক টিকা
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: শিশুর বয়স 6 সপ্তাহ হলে।
৪। রোগের নাম: পোলিও মাইলাইটিস
টিকার নাম: ওপিভি/আইপিভি/ পোলিও টিকা
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: শিশুর বয়স 6 সপ্তাহ হলে।
৫।রোগের নাম: হাম ও রুবেলা।
টিকার নাম: এমআর টিকা।
টিকা শুরু করার সঠিক
সময়: শিশুর বয়স 9 মাস পূর্ণ হলে।
৬।রোগের নাম: হাম।
টিকার নাম: হামের টিকা।
টিকা শুরু করার সঠিক সময়: শিশুর বয়স১৫ মাস পূর্ণ হলে।
এ সব টিকা ছাড়া অন্যান্য রোগের জন্য আরও কিছু টিকা আছে, যেগুলো সরকারিভাবে দেওয়া হয় না। যেমন- রোটা ভাইরাস ডায়েরিয়া, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা ইত্যাদি।
রোটা ভাইরাস- ডায়েরিয়ার দুই ডোজ টিকা শিশুর ২ মাস এবং ৪ মাস বয়সে অথবা তিন ডোজ টিকা শিশুর ২ মাস, ৪ মাস এবং ৬ মাস বয়সে দিতে হয়।
টাইফয়েডের টিকা- দিতে হয় ২ বছর বয়সে। এরপর প্রতি ২ বছর পর বুস্টার ডোজ দিতে হয়।
ইনফ্লুয়েঞ্জার- ক্ষেত্রে ৮ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য ১ম বছরে দুই ডোজ (৬ মাসের ব্যবধানে) টিকা দিতে হয়। এরপর প্রতি বছর একটি করে ডোজ দিতে হয়।
হেপাটাইটিস এ- প্রতিরোধে শিশুর ১ বছর বয়সের পর দু’টি টিকা দেওয়া যায় (৬ মাসের ব্যবধানে)।
মেনিঙ্গকক্কাল মেনিনজাইটিস, ভেরিসেলা, কলেরা রোগের টিকা তেমন একটা দেওয়া হয় না। তবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এই সব টিকা দেওয়া যেতে পারে।
কার্যকর টিকা :
সঠিক সময়সূচি অনুসরণ করে এবং ন্যূনতম বিরতি মেনে টিকা প্রদান করলে সে টিকাকে কার্যকর টিকা বলে।যেমন: শিশুর জন্মের ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিনের পর প্রথম ডোজ পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা অথবা ৯ মাস শেষ হয়ে ১০ মাস/২৭০দিন পর এমআর টিকা দিলে তা কার্যকর টিকা হবে।
অকার্যকর টিকা :
সঠিক সময়সূচি অনুসরণ না করে অথবা ন্যূনতম বিরতির আগে টিকা প্রদান করলে সে টিকাকে অকার্যকর টিকা বলে।যেমন: পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রথম ডোজের ২৮ দিনের আগে দিলে তা অকার্যকর টিকা হবে।
ইনজেকশনের পরে পার্শ্ব পতিক্রিয়া হলে :
যদি ইনজেকশন দেওয়ার ৪-১০ দিন পরে ইনজেকশনের স্থান গরম, লালচে, অনেকটা জায়গা নিয়ে শক্ত হয়ে যায় ও ঐ স্থানে অনেক বেশি ব্যথা হয়, তাহলে মনে করতে হবে এটা ইনফেকশনের লক্ষণ এবং ফোঁড়া সৃষ্টি হচ্ছে। এই সময় টিকা গ্রহণকারীর জ্বর আসতে পারে।চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।ফোঁড়া হলেও পরবর্তী টিকার ডোজ ও পরবর্তী টিকা সময়সূচি অনুযায়ী অবশ্যই দিতে হবে।
কখন টিকা দেওয়া যাবে?
১।প্রায় সকল অবস্থায়ই টিকা দেয়া যায়। টিকা দিলে যে সামান্য জ্বর বা ব্যথা হয় তার চেয়ে টিকা না দিয়ে রোগাক্রান্ত হওয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ।
২।অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুকে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। এই সব শিশুর দেহে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম থাকে। সুতরাং তার প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার জন্যই টিকা দেয়া বেশি জরুরি।
৩।পূর্বে শরীরে কোনো দানা উঠে থাকলে অথবা অতীতে হাম/রুবেলা হয়ে থাকলেও সেই শিশুকে ৯ মাস বা ২৭০ দিন পূর্ণ হলে ১ ডোজ এমআর টিকা এবং ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হলে হামের ২য় ডোজ টিকা দিতে হবে।
কেবলমাত্র নিম্নেউল্লেখিত
কারণগুলোতেই টিকা দেয়া
যাবে না
১।অসুস্থ শিশুকে টিকা দেয়া যাবে না।
২।পূর্ববর্তী পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেয়ার পর শিশুর খিঁচুনি বা অজ্ঞান হলে পরবর্তী পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার ডোজ দেয়া যাবে না। এই ক্ষেত্রে পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার বদলে ১ ডোজ টিটি টিকা দিতে হবে এবং শিশুকে অন্যান্য সকল টিকা (ওপিভি, এমআর, হাম) নিয়ম অনুযায়ী দিতে হবে।
পূর্ববর্তী টিকা দেয়ার পর
কোনো মারাত্বক পার্শ্ব-
প্রতিক্রিয়া হলে পরবর্তী
টিকা দেয়ার পূর্বে অবশ্যই
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
Comments
Post a Comment
Thank you